১৩ নভেম্বর : বনকে কেন্দ্র করে বনাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জীবন জীবিকার সুযােগ সম্প্রসারণে অগ্রাধিকার দিয়েছে সরকার । বন দপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে । মূল উদ্দেশ্য বনবাসী মানুষের আর্থ - সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশকে রক্ষা করা । শুক্রবার আমবাসার চন্দ্রাইপাড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ইন্দো - জার্মান ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বনভূমি ক্ষয় রোধ, জলবায়ু রক্ষা সহ একাধিক প্রাকৃতিক ও পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ হবে এই প্রকল্পে। মোট ২৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। ধলাই ও উত্তর ত্রিপুরা জেলার ১১টি ব্লকের ১৯১টি গ্রামে এই প্রকল্প গড়ে উঠবে। বড় মাত্রায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বিকাশ হবে অর্থনীতিরও। ভারত ও জার্মান সরকারের যৌথ উদ্যোগের এই প্রকল্পে যাঁরা কাজ করবেন তাঁদের আর্থিক দায়িত্ব রাজ্য সরকারের।
ইন্দো-জার্মান ডেভলপমেন্ট প্রকল্পের শুভ সূচনা অনুষ্ঠানের পর জার্মান কনসাল জেনারেল ম্যানফ্রেড অস্টার কে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় শিল্পীদের হস্তশিল্প প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন,আত্মনির্ভর ভারত লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ভোকাল ফর লোকাল স্লোগান দিয়েছেন। স্থানীয় পণ্যের যাতে বিক্রি বারে এবং স্থানীয় শিল্পী কারিগরদের যাতে আর্থিক সংস্থান হয় সে ব্যাপারে নিরলস কাজ করে চলেছে রাজ্য সরকার।
আমবাসা চন্দ্রাইপাড়া হাইস্কুল প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে একটি গাছ প্রাণ। দূষণ রুখতে আরও বেশি করে পরিবেশ সচেতনতা প্রয়োজন।
পরে আমবাসা সার্কিট হাউসে জার্মান কনসাল জেনারেল ম্যানফ্রেড অস্টারের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার যে ইন্দো-জার্মান ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টের শুভ সূচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে তা নিয়েও দুজনের মধ্যে আলোচনা হয়। ইন্দো-জার্মান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তিতে যে যে প্রকল্প আগামীদিনে গড়ে উঠবে, ত্রিপুরা যাতে তার অংশীদার হতে পারে সে বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এর পর আমবাসায় নেতাজি প্লে ফোরাম সেন্টারের শ্রী শ্রী শ্যামা পুজোর শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। আয়োজকদের সমস্ত আয়োজন ঘুরে দেখে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অশুভ শক্তি বিনাশিনী শ্যামা মায়ের কাছে প্রার্থনা করি, করোনা অতিমারীর এই সংকট থেকে উত্তরণের অভয় দান করুন।
এর পরেই আমবাসায় শ্রী শ্রী শিব শম্ভু শ্রী শ্রী কালীমাতা মন্দির দর্শনে গিয়ে রাজ্যবাসীর মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মন্দির দর্শনের পর মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সুবিধা-অসুবিধাগুলির সমাধানের ব্যাপারে আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।








0 মন্তব্যসমূহ