১২ নভেম্বর : ন্যাশনাল স্কুল গেমস ও খেলো ইন্ডিয়া ইয়ুথ গেমসে পুরস্কার জয়ী কৃতী খেলোয়াড়দের  এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংবর্ধনা প্রদান করেন  শ্রী বিপ্লব কুমার দেব। এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংবর্ধনা জ্ঞাপন বা পুরস্কার দেওয়ার অর্থ তাঁদের আরও উৎসাহিত করা। আমরা চাই ত্রিপুরা মডেল স্টেট হয়ে ওঠার লক্ষ্যে যে ভাবে এগোচ্ছে তাতে খেলাধূলাও পিছিয়ে থাকবে না। 



শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যা দিয়েই সব হয় না  বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। একএকজনের একএক দিকে প্রতিভা থাকে। পুঁথিগত বিদ্যায় যেমন প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি শ্রদ্ধেয় এপিজে আবদুল কালাম, আবার খেলাধূলায় আমাদের ত্রিপুরার গর্ব দীপা কর্মকার, শচীন তেণ্ডুলকর, সুনীল গাভাস্কর প্রমুখ। দীপা আমাদের রাজ্যের নাম গোটা দুনিয়ার সামনে উজ্জ্বল করেছেন। তাঁর কারণেই শ্রেষ্ঠ মানের জিমন্যাস্ট ট্রেনিং সেন্টার তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। যেখানে কলকাতা থেকে অনেকে ট্রেনিং করতে আসছেন। 



মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ক্রীড়া ক্ষেত্রের অগ্রগতির জন্য রাজ্য সরকারও নানান কার্যধারা জারি রেখেছে। দুই ধাপে ২০৮টি স্পোর্টস কোচিং সেন্টার গড়ে তোলা হচ্ছে। সেখানে প্রশিক্ষণ দেবেন ৫৭৩ জন শারীরশিক্ষার শিক্ষক। ১১০০ ক্লাবকে স্পোর্টস কিট দেওয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীজির নেতৃত্বে বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জনমুখী সরকার কাজ করে চলেছে। সেই বিচার ধারাতেই ত্রিপুরা সরকারও রাজ্যের সার্বিক বিকাশে উদ্যোগী। তার মধ্যে ক্রীড়া ক্ষেত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



পরে মহাকরনে ত্রিপুরার বরিষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সংবাদমাধ্যমের আরও উন্নতি এবং সাংবাদিকদের কল্যাণের বিষয়ে  তাঁদের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয় বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকার এই বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের পাশে রয়েছে।



পরে বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাভবনে নবনিযুক্ত টি সি এস প্রবেশনারি আধিকারিকদের ১৪ দিনের প্রশিক্ষণ শিবিরের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বিপ্লব কুমার দেব ।  ২০২০ ব্যাচের নবনিযুক্ত টিসিএস অফিসারদের ট্রেনিংয়ের এই সমাপ্তি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই কাজে একাগ্রতা ও কর্তব্যপরায়ণতাই মূল মন্ত্র। নিয়োগের প্রথম ১০-১২ বছর হল নিজেকে প্রমাণ করার আসল সময়।  কর্মজীবনে এমন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে হবে যাতে অবসরের পর আক্ষেপ না করতে হয় যে, সময় থাকতে আমি এই কাজটা করতে পারলাম না।



মুখ্যমন্ত্রী এই নবনিযুক্ত আধিকারিকদের উৎসাহিত করে বলেন, অসম্ভবকে সম্ভব করার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। সিস্টেম যখন আপনাকে সিলেক্ট করেছে তখন আপনাকেও তার মর্যাদা রেখেই কাজ করতে হবে।




ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান তথা মহা নির্দেশক ডি ভি প্রসা  মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বিপ্লব কুমার দেবের সঙ্গে  এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করে মিলিত হন । 


      এই বৈঠকের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন বিষয়ে দুজনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে গোডাউন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানান, ছ'লক্ষ টন খাদ্যশস্য মজুত করার মতো গোডাউন ত্রিপুরায় প্রয়োজন।


        শ্রী প্রসাদ  মুখ্যমন্ত্রীকে জানান, বিশাখাপত্তনম ও পাঞ্জাব থেকে চাল এনে তা উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে সরবরাহ করে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে বলেন, এফসিআই যদি ওড়িশা থেকে চাল আনে এবং পারাদ্বীপ বন্দরের মাধ্যমে চট্টগ্রাম হয়ে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে সরবরাহ করে তাহলে সুবিধা ও সাশ্রয় হবে। রাজ্যে গোডাউনের পরিমাণ বাড়লে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক লেনদেন সুদৃঢ় হবে তেমনই অনেক কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।



রাজ্যের বণিক সভার এক প্রতিনিধি দল মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।  শিল্প ও বাণিজ্যিকগত দিক থেকে রাজ্যকে সমৃদ্ধ করতে তাঁদের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য ক্ষেত্রে উন্নয়নের বিষয়েও  আলোচনা হয়েছে, যা রাজ্যের বিকাশে কার্যকরী ভূমিকা নেবে বলে আশা ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী।