১২ অক্টোবর : রাজমাতা বিজয়া রাজে সিন্ধ্রিয়ার জন্মদিন উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এক স্মারক মুদ্রার উদ্বোধন করেন । ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বিপ্লব কুমার দেব।
অ্যাকেয়োরিয়ামের রঙিন মাছ প্রতিপালনের জন্য ত্রিপুরার আবহাওয়া আদর্শ। জামজুড়ির বাসিন্দা তুতুল দেব বর্ধন এখানে সেই প্রকল্প গড়ে তুলেছেন। আগে এই সুদূর গ্রামে এ জিনিস কেউ ভাবতেও পারত না। মুখ্যমন্ত্রী ঘুরে দেখেন তুতুল দেব বর্ধনের প্রকল্পটি। তিনি ও অন্যান্যরা যে উদ্যোগ নিয়েছেন তাকে মুখ্যমন্ত্রী স্বাগত জানান। তাঁদের এই পদক্ষেপ ত্রিপুরার অন্যান্য মহিলাদেরও উৎসাহিত করবে বলে আশা ব্যাক্ত করেন তিনি।
জামজুড়িতে শুরু হল ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্কের নতুন এটিএম কাউন্টার। সোমবার সেই নবনির্মিত এটিএম কাউন্টারের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বিপ্লব কুমার দেব।
জামজুড়িতে মুখ্যমন্ত্রী আদর্শ গ্রাম অভিযান কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বিপ্লব কুমার দেব। এই অনুষ্ঠানে সমবেত সাধারন জনগনের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অন্যান্য পরিকাঠামোর সব কিছু জামজুড়িতে গড়ে উঠেছে। নতুন করে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরির প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই গ্রামকে আমি ছোট থেকে দেখেছি। আগে সারা ত্রিপুরায় একটা মানসিকতা তৈরি করে দেওয়া হত যে, সরকারি চাকরি পেতে হবে। উত্তর-পূর্বের কোনও রাজ্যে এই মানসিকতা নেই। সিকিম, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল এমনকি অসমেও মানুষ চান স্বনির্ভর হতে। এখন ত্রিপুরা সরকার সেই লক্ষ্যেই পথ চলছে। গ্রামীণ এলাকা সহ রাজ্যের সমস্ত অংশের মানুষকে স্বনির্ভর করে তোলার মাধ্যমেই রাজ্য আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমাকে অনেকে বলছিলেন, মাসরুম চাষ অতিরিক্ত হওয়ার ফলে দাম পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁরা অনুরোধ করেন, সরকার যাতে মাসরুম কিনে মিড ডে মিলে ব্যবহার করে। এই অনুষ্ঠান থেকেই স্কুল শিক্ষা দফতরের সচিবকে আমি সেই কাজ করার নির্দেশ দিই।
পড়ে মুখ্যমন্ত্রী যান স্থানীয় জামজুড়ি দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ে । এই স্কুলেই মুখ তিনি পড়াশোনা করেন। এ বিষয়ে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আজ অনেক বছর পর স্কুলে পা রেখে এক অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছিল। কত স্মৃতি ভেসে উঠছিল চোখের সামনে। ছাত্র জীবনের নস্টালজিয়া ফিরে এল আজ।
স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্ত দফতর ও শিক্ষা দফতরকে একটি নতুন বিল্ডিং তৈরি করার নির্দেশ দেন তিনি। স্কুলের মাঠকে মিনি স্টেডিয়াম করার নির্দেশও দিয়েছেন ত্রিপুরা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনকে।
কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের নিয়ে কাকড়াবনে এদিন লাভার্থী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সামনে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বিপ্লব কুমার দেব। তিনি বলেন, রাজ্যের অন্তিম ব্যক্তি পর্যন্ত সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে আমাদের সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী কাকড়াবনে ভারতীয় জনতা পার্টির কার্যকর্তাদের সভায়ও অংশগ্রহণ করছন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীতিতে আস্থাশীল হয়ে, রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে এই কর্মসূচীতে কয়েশ মানুষ ভারতীয় জনতা পার্টিতে শামিল হন।
শাসক দলে শামিল হওয়া নবাগতদের মধ্যে রয়েছেন, কংগ্রেসের জেলা সহ সভাপতি রতন দেববর্মা ও ১৩৩টি পরিবারের ৪৫৯ জন সদস্য। এ ছাড়াও আইপিএফটি-র ১৫ পরিবারের ৩১ জন ভোটার। একই সাথে পদ্মফুলের পতাকা হাতে নিয়েছেন '১০৩২৩ শিক্ষক'দের ৪০টি পরিবারও।

























0 মন্তব্যসমূহ