২০ সেপ্টেম্বর :  বর্তমান কোভিড- ১৯ অতিমারি পরিস্থিতিতে রাজ্যের অর্থনীতিকে সুদৃঢ় রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার । জনগণের কল্যাণে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে চলেছে সরকার । দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদির জন্মদিন উপলক্ষ্যে আয়ােজিত সেবা সপ্তাহ কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে আজ উষাবাজারস্থিত সুখময় উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক মেগা রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব । তিনি বলেন , রাজ্য সরকার জনগণকে স্বচ্ছ প্রশাসন উপহার দিতে স্বচ্ছ নিয়ােগ পদ্ধতি চালু করেছে । পুলিশে নিয়ােগের ক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য ১০ শতাংশ পদ সংরক্ষণ করা হয়েছে । এই সুযােগকে কাজে লাগাতে মহিলাদেরকে আরও তৎপর হয়ে এগিয়ে আসার জন্য তিনি আহ্বান জানান 





মুখ্যমন্ত্রী বলেন , বর্তমান এই করােনা অতিমারির প্রকোপের মধ্যে প্রত্যেকের সাবধানতা অবলম্বন করা অত্যন্ত প্রয়ােজন । বজায় রাখতে হবে সামাজিক দূরত্ব । ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে । মাস্ক বা মুখাবরণ পরিধান করতে হবে । পাশাপাশি সাবান দিয়ে হঁত পরিস্কার রাখা দরকার । বর্তমান এই অতিমারি পরিস্থিতিতে যার যতটুকু সামর্থ রয়েছে তার মধ্য থেকে একে অপরের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কথা তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন । 





 এরপর আগরতলার হিন্দি হায়ার সেকেন্ডারী স্কুল প্রাঙ্গণে এক রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন , রক্তদান মানুষকে অনুপ্রেরণা দেয় । সাহসিকতার মানসিকতা জোগায় । সমাজে একে অপরের প্রতি সহযােগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মনােভাব সৃষ্টি করে । তিনি বলেন , প্রত্যেকটি ব্যক্তির সমাজের প্রতি তার প্রতিদানই পরবর্তী সময়ে সকল মানুষের কাছে স্মরণীয় করে রাখে । উদাহরণ স্বরূপ তিনি সম্রাট অশােকের কথা উল্লেখ করে বলেন , যে সম্রাট অশােক এক সময় সমগ্র বিশ্ব জয় করতে চেয়েছিলেন । কিন্তু তিনি পরে কলিঙ্গ যুদ্ধের পর মানসিক শান্তির জন্য বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি আগ্রহী হন এবং জনগণের কল্যাণে নিজেকে নিয়ােজিত করেন । মানব কল্যাণে সম্রাট অশােকের ভূমিকার কথা ইতিহাসে স্বরণীয় হয়ে আছে ।  



মুখ্যমন্ত্রী বলেন , ভারতবর্ষের মাটিতে বহু মুনিঋষিগণ জন্ম নিয়েছেন । বিশ্বে শুধুমাত্র আমাদের দেশকে মাতৃভূমি রূপে সম্মান করা হয় । ভারতবর্ষ কখনও অপর রাষ্ট্রের উপর আক্রমণ করেনা । কারণ ভারতবর্ষ মাতৃতান্ত্রিক দেশ । তবে নিজের মাতৃভূমির উপর আঘাত আসলে তার প্রতিরােধ করতে পিছুপাও হয়না ভারত । তিনি বলেন , দেশের প্রধানমন্ত্রী জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন এবং বিশ্বের দরবারে ভারতবর্ষকে শ্রেষ্ঠতম স্থানে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে অবিচল রয়েছেন ।  উদ্বোধনী পর্ব শেষে মুখ্যমন্ত্রী সহ অতিথিগণ রক্তদান শিবির ঘুরে দেখেন । 


রবিবার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব আগরতলা পুরনিগমের ৩০ নং ওয়ার্ডের আম্বেদকর পল্লীস্থিত মৎস্যচাষের প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনের প্রতিষ্ঠান ‘ রঙ্গময়ী গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন কররেন। পরে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতেগিয়ে তিনি বলেন ।  মাছ চাষের মাধ্যমে ত্রিপুরার হাজারাে যুবক - যুবতী যাতে সহজে স্বনির্ভর হতে পারেন সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ।  বিশেষ করে তপশিলীজাতি অংশের মানুষই মৎস্যচাষের সঙ্গে যুক্ত থাকেন । তবে বর্তমানে জনজাতি ও অন্যান্য সাধারণ অংশের মানুষও মৎস্যচাষে যুক্ত হচ্ছেন । এই কাজে যুক্ত তপশিলীজাতি ও জনজাতি অংশের মৎস্য ব্যবসায়ীদের উন্নয়নে রাজ্য সরকার সব সময় পাশে থাকবে । 



মুখ্যমন্ত্রী বলেন , ত্রিপুরা সরকার চায় ত্রিপুরার প্রতিটি মৎস্যজীবী পরিবার সমৃদ্ধি লাভ করুক । সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই সরকার কাজ করছে । তাই করােনার মহামারির মধ্যেও সরকার এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে । মুখ্যমন্ত্রী বলেন , আগামী দু'বছরে রাজ্যকে মৎস্যচাষে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে । সেই জন্য রাজ্যের বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী জলাশয়ে বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে মাছ চাষের ব্যবস্থা করা হবে । সারা রাজ্যের মৎস্য বিক্রেতাদের তালিকা তৈরী করা হবে । সমস্ত মৎস্য ব্যবসায়ীদের এক ছাতার নীচে এনে যারা মৎস্য ব্যবসায় উৎসাহী অথচ আর্থিক সংগতি নেই সরকার তাদের এস সি কর্পোরেশনের মাধ্যমে ঋণ দিয়ে সহযােগিতা করবে । তিনি মৎস্যচাষীদের মাছের চাষে উৎসাহ দিয়ে কৃষকদের অনাবাদী জমিতে বা যে জমিতে শুধুমাত্র এক ফসল ধান চাষ হয় সেই সব জমিতে পুকুর খনন করে মাছের চাষ করার পরামর্শ দেন ।



 মুখ্যমন্ত্রী বলেন , করােনা পরিস্থিতিতেও ত্রিপুরার সরকার সাধারণ মানুষের আর্থিক ক্ষতি যাতে না হয় সেই দিশাতে কাজ করে যাচ্ছে । প্রধানমন্ত্রীর আত্মনির্ভর ভারত গড়ার স্বপ্নও সফল হবে । সেইসাথে আত্মনির্ভর ত্রিপুরাও গড়ে উঠবে । 





এরপর খোয়াই এ অনুষ্ঠিত ভারতীয় জনতা পার্টি তপশিলী জাতি মোর্চা ত্রিপুরা প্রদেশের কার্য্যকারিনী বৈঠকে উপস্থিত থেকে কার্যকর্তাদের সম্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত বাম সরকার তপশিলি জাতি সংরক্ষিত ১০টি আসনের উপর নির্ভর করে ২৫ বছর ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু আপনারাই বলুন তারা এই ২৫ বছর কি এমন প্রকল্প এনেছিল যার মাধ্যমে তপশিলি জাতি অংশের মানুষ সত্তিকারের অর্থে স্বাবলম্বী হতে পারে? কিছুই করেনি।