২৯ অক্টোবর : জনজাতি সমাজের সর্বাঙ্গীন বিকাশে আমাদের সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অল্প সময়ের মধ্যেই জনজাতি সমাজের আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রশ্নে সরকারি একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজ্য অতিথিশালায় ত্রিপুরার বিভিন্ন অঞ্চলের জনজাতি সম্প্রদায়ের সমাজপতিদের নিয়ে বিজয়া সম্মেলনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বিপ্লব কুমার দেব।  তিনি জনজাতি সম্প্রদায়ের লোকজনের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বর্তমান রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, ত্রিপুরা জনজাতি এলাকা স্ব-শাসিত জেলা পরিষদের নাম ত্রিপুরা টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল রাখার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আমি আশা করি খুব শীঘ্রই তা অনুমোদিত হয়ে যাবে।



মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী মাননীয় শ্রী নরেন্দ্র মোদীজি এবং গৃহমন্ত্রী মাননীয় শ্রী অমিত শাহজি যখনই আমাকে ফোন করেন তখনই রাজ্যের ৩৪ হাজার ব্রু রিয়াং জনজাতি শরণার্থীদের পুনর্বাসনের অগ্রগতি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন । এটা আমার কাছে অত্যন্ত সৌভাগ্যের ব্যাপার।তিনি বলেন, জনজাতি এলাকার উন্নয়নের প্রশ্নে এই সরকার বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। রাজ্যের এডিসি এলাকাতে নতুন রাস্তা নির্মাণের জন্য ২০০ কোটি টাকা মঞ্জুর হয়েছে। এর ফলে ২০২৩-এর আগে ত্রিপুরার সড়ক ব্যবস্থার চিত্র বদলে যাবে।



মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জনজাতি সমাজপতিরা আমার কাছে ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন বিজয়ার পর একটা মিলন উত্‍সব হোক। আগে মহারাজা এই অনুষ্ঠান করতেন। আমি তাঁদের বলেছিলাম, পরম্পরা মেনে দশমীর পর লক্ষ্মী পুজোর আগে একটা অনুষ্ঠান হবে। আমি চেয়েছিলাম সবাই তাঁদের মনের কথা বলুন। আজ প্রত্যেকে তাঁদের কথা বলেছেন।



জনজাতি সমাজপতিদের দাবি মতো, মুখ্যমন্ত্রী এদিন ঘোষনা দেন  এখন থেকে রাজ্যের উপজাতি কল্যাণ দপ্তরের নাম হবে জনজাতি কল্যাণ দপ্তর।


 


রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এদিনের অনুষ্ঠানে  উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের গর্ব, বর্ষীয়ান রোসেম বাদক পদ্মশ্রী থাঙ্গা ডারলং, মহারাজা প্রদ্যোত কিশোর মাণিক্য, মন্ত্রী শ্রী এনসি দেববর্মা, শ্রী মেবার কুমার জামাতিয়া, সুশ্রী শান্তনা চাকমা, সাংসদ শ্রী রেবতী ত্রিপুরা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট জনেরা।



পরে মাতা ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির ট্রাস্টের সদস্যদের সঙ্গে মহাকরণের কনফারেন্স হলে এক বৈঠকে মিলিত হন মুখ্যমন্ত্রী। আসন্ন দীপাবলী উপলক্ষ্যে যে মেলা অনুষ্ঠিত হবে তার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয় এই বৈঠকে। তা ছাড়া মন্দিরের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও ট্রাস্টের সদস্যদের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।