১৮ অক্টোবর : রবিবার আগরতলা ব্লাড মাউথ ক্লাবে এক রক্তদান উৎসবের আয়োজন করা হয়। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে এর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বিপ্লব কুমার দেব।  এই অনুষ্ঠানে সমবেতদের রক্তদাতা ও ক্লাব কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই সমস্ত কাজের আরও প্রচার দরকার। সোশ্যাল মিডিয়া, পত্রপত্রিকায় প্রচার হলে অন্যান্য ক্লাবগুলিও এগিয়ে আসবে। একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা হবে। 



মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে সারা দুনিয়া এবং সারা দেশ যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের সাবধানতা ও সাহসিকাকতার সঙ্গে চলতে হবে। 



সরকারের সমালোচকদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অনেকেই আলোচনা-সমালোচনা করেন। কিন্তু তাঁদের আমি বলব, গোটা দেশে কী হচ্ছে জানা উচিত। দিল্লিতে, মুম্বইতে, ত্রিবান্দ্রমে, কলকাতায় কী হচ্ছে জানা দরকার। তাহলে বোঝা যাবে আমাদের মাতৃভূমি ত্রিপুরার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। 



এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী চলেযান রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে । সেখান ৫৯ তম শিক্ষক দিবস উদযিপন উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।  এই  অনুষ্ঠানে সমবেত সুধীজনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার গুণগত শিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। এর ফলে ছাত্রছাত্রীদের পাশের হার বাড়তে শুরু করেছে। ২০১৭ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশের হার ছিল ৬৭.৩৮%, দ্বাদশে ৭৭.৭৩%। আর ২০২০তে  পাশের হার বেড়ে মাধ্যমিকে হয়েছে ৬৯.৪৯% আর দ্বাদশে ৮০.৮০%। 



মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার রাজ্যে গুণগত শিক্ষার বিকাশে যে পরিবর্তন এনেছে, তাতে শিক্ষকদের গঠনমূলক ভূমিকার অবদান রয়েছে। সে কারণেই আমরা সুফল পেতে শুরু করেছি। 



মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি বৃত্তিমূলক শিক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে বর্তমান রাজ্য সরকার। যারা ভারতবর্ষের গুণগত শিক্ষার বিকাশ চায় না, তারা নতুন শিক্ষা নীতির বিরোধিতা করছে। এমনকি তারা জানেও না যে কেন তারা বিরোধিতা করছে। 



মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন, আমি চাই স্কুলে প্রার্থনার সময় ছাত্রছাত্রীদের সামনে শিক্ষকরা কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের জনহিতকর প্রকল্পগুলি সম্পর্কে তাদের অবহিত করুন । যাতে তারা বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের সে ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।



এদিনই মুখ্যমন্ত্রী চলে যান আমবাসায়। স্থানীয় পিআরটিআই হলে জনজাতি মোর্চার কার্যকারিনী বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন তিনি। উক্ত বৈঠকে উপস্থিত কার্যকর্তাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার আমূল পরিবর্তন হতে চলেছে। স্বনির্ভর ত্রিপুরা তৈরি হতে চলেছে। রাজ্য সরকার জনজাতি সমাজের সার্বিক বিকাশের লক্ষ্যে কাজ করছে।



পরে আমবাসা রেভিনিউ ডাকবাংলোয় ধলাই জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন মুখ্যমন্ত্রী। যে যে প্রকল্পের কাজ চলছে সে ব্যাপারে পর্যালোচনা হয়। নতুন প্রকল্প কার্যকর করার বিষয়ে জেলা প্রশাসনিক আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।