আমার মুখ্যমন্ত্রী,০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ।।
আজ সকালে বিধানসভার উপাধ্যক্ষ শ্রী বিশ্ববন্ধু সেন জীর বাসভবনে যান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এরপর ধলাই জেলার আমবাসায় কোভিড -১৯ পরিস্থিতি সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে মন্ত্রী মনোজ কান্তি দেব , প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যসেবার সাথে যুক্ত কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকের পৌরহিত্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
পরে স্থানীয় কোভিড সেন্টার পরিদর্শন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,"আড়াই বছর পূর্ণ করল আমাদের সরকার। ত্রিপুরার সাধারণ মানুষ আমাকে, আমাদের সরকারকে যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রীনরেন্দ্র মোদীজির নেতৃত্বে সরকার গড়েছিলেন, আমরা তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করছি। এমন অনেক কাজ চলছে যা ভিশন ডকুমেন্টে ছিল না। স্বনির্ভর ত্রিপুরা গড়ে তোলা থেকে ছোট ছোট দোকানিকে নিজের পায়ে দাঁড় করানোর মতো কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে রাজ্যে। বিরোধী বন্ধুরা ভাবেন, তাঁরা যে ভাবে চালিয়ে গিয়েছেন সেটাই বোধহয় সিস্টেম। কিন্ত আজকে ত্রিপুরার যুব সমাজ এটা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করছে যে, তাঁরাও কিছু করতে পারেন। এত বিমান আসছে, ট্রেন আসছে ত্রিপুরায়, নদী পথে বাণিজ্য শুরু হয়েছে, সব দিক থেকেই ত্রিপুরা এগিয়ে চলেছে সামনের দিকে। এখন এই কোভিড পরিস্থিতিতে আলোচনা-সমালোচনার সময় নয়। এখন মানুষের জীবন বাঁচাতে হবে। আলোচনা-সমালোচনার অনেক সময় রয়েছে।"
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আমবাসায় ধলাই জেলার প্রমুখ কার্যকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকেও মিলিত হন। ভারতীয় জনতা পার্টির সমস্ত কার্যকর্তাকে করোনার বিরুদ্ধে মানুষকে বাঁচানোর এই লড়াইয়ে জনগণ ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন তিনি।
এদিন ধলাই জেলার আমবাসায় পিআরটিআই কোভিড কেয়ার সেন্টার পরিদর্শন শেষে, সেখান থেকে যান আমবাসার এসটি বয়েজ হোস্টেলের কোভিড কেয়ার সেন্টারে। দু'টি জায়গাতেই আধিকারিক ও স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। কোভিড কেয়ার সেন্টারে থাকা রোগীদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সে ব্যাপারে তাঁদের আরও যত্নবান হওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
ধলাই জেলা সফর শেষে মুখ্যমন্ত্রী যান খোয়াই জেলায়। সেখানকার কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে জেলা শাসকের কার্যালয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য মেওয়ার কুমার জামাতিয়া। জেলা ওয়াড়ি যে কোভিড হেল্পলাইন নম্বর চালু রয়েছে, সেখানকার কল সেন্টারের দায়িত্বে যাঁরা থাকবেন তাঁদের নির্দেশ দেন। একই সাথে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'সাধারণ মানুষ ফোন করলে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে কথা বলতে হবে। যদি কোনও রোগীর অবস্থা গুরুতর হয় তাহলে ফোনে কথা বলেই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীর কাজ শেষ হবে না। তাঁকে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে সংশ্লিষ্ট রোগীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনও করানোর বাড়তি উদ্যোগ নিতে হবে।'
পাশাপাশি প্রশাসনিক আধিকারিকদের বলেন, 'চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করে মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতি মুহূর্তে তৎপরতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। যাতে কোনও রোগীকে সমস্যার মধ্যে পড়তে না হয় তা সহানুভূতির সঙ্গে দেখতে হবে।'
এদিন মুখ্যমন্ত্রী খোয়াই জেলায় ভারতীয় জনতা পার্টির কার্যকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। বিজেপির সমস্ত কার্যকর্তাকে সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন তিনি।
পরে মুখ্যমন্ত্রী খোয়াই জেলার তুলাশিখর কোভিড কেয়ার সেন্টার পরিদর্শন করেন। আধিকারিক ও স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। কোভিড কেয়ার সেন্টারে থাকা রোগীদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সে ব্যাপারে তাঁদের তৎপর থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

































0 মন্তব্যসমূহ